| ছোটগল্প |
| অতৃপ্ত তৃষ্ণা | – হরবিলাস সরকার |
পরিমলদা, তুমি আমাকে ভুল বুঝনা। এ আমার বিরহের যন্ত্রণা নয়, বিচ্ছেদের। এ যন্ত্রণা মধুময় নয়, বড়ই দুঃসহ।
কথাগুলো পরিমলের হৃদয়কে নাড়িয়ে দিল। জিজ্ঞেস করল, বৈশাখী, কেন এমন হলো? রিজু তো খারাপ ছেলে নয়।
পরিমলদা, ভালো-খারাপ বিষয়গুলো আপেক্ষিক। স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে বিচার ভিন্ন ভিন্ন হয়। কারও কাছে দুধ ভালো, কারও কাছে মদ। তোমার চোখে যে প্রিয়, হয়তো আমার চোখে অপ্রিয়। আবার ভালোরও তো শেষ নেই। আজ যাকে ভালো লাগলো, কাল আরেক জনকে আরও ভালো লাগলো। আগের ভালো তখন মন্দ, অপ্রিয় হয়ে যায়। আজকের পৃথিবীতে জীবনের বন্ধন বড়ই ঠুনকো।
পরিমল একথা নিজেও বোঝে। কিছুকাল আগেই হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছে। তাও দশ-দশটা বছর পেরিয়ে গেছে। শ্রেয়সীকে প্রাণ ভরে ভালবেসেছিল। আশ্বিনের এক বিকেলের পড়ন্ত বেলায় দু’জন-দু’জনকে কথা দিয়েছিল। ভাগীরথীর জলে অস্তগামী সূর্য তখন আবির রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে। দু’জনে হাতে-হাত ধরে শপথ করেছিল, জীবনে-মরণে আমরা সাথী হয়ে থাকবো।
ভালোই যাচ্ছিল দিনগুলো। পৌষের এক সকালে শ্রেয়সী এসে সুখবর দিল, পরিমলদা, আমি শিক্ষিকা হয়ে গেছি। নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছি। আজই যোগ দেবো, মথুরাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সুখের ঘর বাঁধার দিন গুনছিল পরিমল। ফাল্গুনের দখিনা বাতাসে আর কোকিলের কুহুরবে মন দুলে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ বৈশাখের প্রবল ঝরে এক ঝটকায় স্বপ্নের ঘর ভেঙে গেল। শ্রেয়সীর বিয়ে হয়ে গেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সঙ্গে। তবে সে বিয়ে সুখের হয়নি। বছর না ঘুরতেই শ্রেয়সীকে ত্যাগ দিয়ে তার স্বামী অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে।
শ্রেয়সীর দ্বিতীয়বার বিয়ে হয়েছিল দোজবরের সঙ্গে। সে ঘরও টেকেনি। ভাগ্যদোষে শেষে ঠাঁই হয়েছে পতিতালয়ে। এত কিছু নিজের চোখে দেখেছে পরিমল। অনেক ব্যথা নীরবে সয়েছে। অবশেষে সব ব্যথা ভাগীরথীর জলে বিসর্জন দিয়ে সেই থেকে সে বড়ই উদাসীন। ঘর আর বাঁধবে না, কোনো মেয়ের চোখে-চোখ রেখে কথাও বলবে না, প্রতিজ্ঞা করেছিল।
তবে এত বছর পর আজ এই গ্রীষ্মের বিকেলে মনের আকাশে হঠাৎ একটা দমকা হাওয়া এসে সেই প্রতিজ্ঞা ভেঙে দিয়ে গেল। ভাগীরথীর পাড় ধরে হাঁটতে হাঁটতে কথার আদান-প্রদান চলতে চলতেই বৈশাখীর চোখে-চোখ পড়ে গেল। পুরানো ব্যথাগুলো নিমেষে জেগে উঠলো। দু’জনেই একই বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা। বেদনার্ত পরিমল বলল, তোমার যন্ত্রণা আমি বুঝি। আমাদের দু’জনেরই হৃদয়বীণায় বাজে এখন বিষাদ সংগীত।
বৈশাখী আরও অনেক কথা শুনতে চায় পরিমলদার মুখে। পরিমলও আরও অনেক কথা বলে বৈশাখীকে। দেখতে পাচ্ছো, সামনে সবুজ ঘাস। একদিন এখানে বসেই শ্রেয়সীকে নিয়ে কত স্বপ্ন দেখতাম! সেই বয়ে চলা স্রোত, স্রোতে মেশানো অস্তবেলার সূর্যের আবির রঙ। বৈশাখী, একটুখানি বসবে এখানে? মন্দ হয় না। আমার তো বসতেই ইচ্ছে করছে।
পাশাপাশি বসল দু’জন। সারাদিন আগুনে দগ্ধ করার পর প্রকৃতিও এই বেলায় একটু শীতল বাতাস উপহার দিয়েছে। হয়তো দূরে কোথাও বৃষ্টি হয়েছে।
বৈশাখীর ভেতরের যন্ত্রণা নিবৃত্ত হয়ে গেল কোন্ এক জাদুবলে, তা সে নিজেও জানে না। বড় প্রশান্তি। প্রাণ খুলে কথা বলছে। পরিমলদা, দেখ, সূর্যটা একটু একটু করে দিগন্তের কাছে এগিয়ে যাচ্ছে, তারপর ডুবে যাবে। বৈশাখী, প্রতিদিন এমনি করেই সূর্য ডুবে যায়। হ্যাঁ দাদা, আবার প্রতিদিন একটা নতুন ভোরের সূচনা হয়। বিশ্বব্রহ্মাণ্ড গতিময়, নিয়ত পরিবর্তনশীল। তবু দেখ, সূর্য প্রতিদিন পূব দিকে ওঠে। চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে। গ্রহরা আপন আপন পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। সৌরজগতের এই যে বন্ধন, কখনও ছিন্ন হয় না। এ যে চিরকালের বন্ধন। এ এক পরম সত্য। শুধু মানুষের জীবনেই ব্যতিক্রম ঘটে। সবাই চিরমিলনের সুখ পায় না।
বৈশাখী, মন বাঁধনহীন। জোর করে বেঁধে রাখা যায় না। তবু তো সে মন বিনিসুতোয় মালা গাঁথে। কেউ ঘর পায়, কেউ পায় না। কেউ আবার নদীর মতো এ পাড় ভাঙে, ও পাড় গড়ে। কেন, বলতে পারো? কেন? প্রেম হলো তপ্ত মরুবুকের বা শুকিয়ে যাওয়া নদীর তৃষ্ণার মতো। তবে এ প্রেম হৃদয়ের নয়, শরীরের। হৃদয়ের প্রেম চিরঅমলিন, জীবনকে ফুলের মতো সৌরভে সুরভিত করে। কখনও অশ্রু ঝরে। সে অশ্রুধারায় মরুবুকের মাটি হয় উর্বর, প্রাণহীন নদী ফিরে পায় নবজীবন। সে প্রেম হারিয়ে গেছে। চারদিকে এখন ভোগ-বিলাসিতা, জৌলুসের দুর্নিবার হাতছানি। শরীর তাতে মত্ত হয়। আমরা বাইরেটা সাজাই, ভেতরে আবর্জনার স্তুপ জমে। নীতিবোধের শিক্ষাগুলো, ত্যাগের আদর্শ দিনে দিনে হারিয়ে গেছে। খাওয়া আর ঘুমানো এখন জীবনের ধর্ম। সভ্যতার চোখে কলঙ্ক লেপে আমরা এমন আধুনিক সমাজ এনেছি। এখানে হৃদয়-বাগিচায় আগাছার চাষ হয়। মানুষ নয়, পশুরা বিচরণ করে। এসব কথা ছাড়ো। তোমার-আমার মধ্যে কি এসব আলোচনা সাজে? বৈশাখীর মন মুগ্ধতায় ভরে ওঠে। উত্তর দেয়, কেন সাজে না? সাজালেই সাজে। দু’জোড়া চোখের অস্ফুট হাসি আর কোমল করমর্দনে নবজীবনের বাসনার উদ্রেক হয়।
বৈশাখী, আমার ঘর বাঁধা হয়নি, সত্য। সে ইচ্ছাও অন্তিমকালে দাঁড়িয়ে। তাছাড়া তুমি বড় ঘরের মেয়ে। কেমন করে সম্ভব? উত্তর তো আমি দিয়েই দিয়েছি। তুমি অমত ক’রো না, লক্ষ্মীটি।
আষাঢ়ের এক রিমঝিম বর্ষার দিনে সাঁঝের বেলায় নারায়ণের মন্দিরে চার হাত এক হয়ে গেল। দুজনেই দেবতার আশীর্বাদ চাইল, ঠাকুর, এই বন্ধন হোক জন্মজন্মান্তরের।
ছোট্ট বাড়ি, ছোট্ট ঘর, এক চিলতে উঠোন। এক মাসের মধ্যেই উঠোনটা উদ্যানে পরিণত হল। ফুলে ফুলে ভরে উঠলো। তারপর বছর ঘুরতেই এক পূর্ণিমা রাতে মেয়ে এলো ঘর আলো করে। একেবারে বৈশাখীর মুখের প্রতিরূপ। পরিমল আদর করে নাম রাখল পূর্ণিমা।
শ্যামল-সুন্দর, শান্তির নীড়-ছায়াতলে বসে শুরু হল আদরের মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা। ওগো, মেয়েকে আমরা মানুষের মতো মানুষ করবো, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিতা করবো, …….। হ্যাঁ বৈশাখী, মেয়ে আমাদের অনেক বড় হবে।
এমনিকরেই দশটা বছর কেটে গেল। ছোট্ট বাড়িটা সংস্কার হয়ে আরও সুন্দর হয়েছে। দোতলা হয়েছে। তবুও বৈশাখীর আশার অন্ত নেই।
পূর্ণিমা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ সম্পূর্ণ করে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। পরিমল বৈশাখীকে কথা দেয়, হ্যাঁগো, সংসারের মঙ্গলের জন্য আমি আরও কষ্ট করবো। তুমি স্কুলটা করে ঘর সামলাও, আর মেয়েকে যত্ন করো। আমি বাইরেটা সামলাবো। স্কুলের পাশাপাশি সকাল-বিকেল টিউশন তো করিই। আরও নাহয় কয়েকটা টিউশন ধরবো। রোজগারটা বাড়বে। বেসরকারি স্কুলের মাইনে তো আর বেশি নয়। ঠিকই তো। কিন্তু মেয়ের প্রতি লক্ষ্য তোমাকেও রাখতে হবে। ইংরেজিটা ভালো করে শেখাতে হবে। চিন্তা ক’রো না। আমি একটা উপায়ের কথা ভেবেছি। কী উপায়, ওগো? শোনো, বাবুপাড়ার সমরেশ, আমার থেকে অনেকটাই ছোট, একসময় অনেক টিউশন করতো,বছর দুয়েক হল, হাইস্কুলের চাকরি পেয়েছে। সরকারি স্কুল, মাইনে অনেক। শুনেছি, এখন আর টিউশন করে না। তবে আমি বললে, না বলতে পারবেনা। ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলতে পারে। ও আমার মেয়েকে সপ্তাহে তিনটে দিন এসে ইংরেজিটা পড়িয়ে যাবে। বৈশাখী আশ্বস্ত হল।
পরিমল বেশ কয়েকটা টিউশন ধরল। সেই সকালে বের হয়, টিউশন করে স্কুলে ঢোকে। আবার স্কুলের পর অনেক রাত পর্যন্ত টিউশন করে বাড়ি ফেরে।
সমরেশ সন্ধ্যার পর তিনটে দিন পড়াতে আসে পূর্ণিমাকে। বৈশাখীরও সেসময় তেমন কোন কাজ থাকে না, সমরেশকে চা করে দেওয়া ছাড়া। চা করে নিয়ে এসে মেয়ের পাশে একটুখানি বসে। প্রথম দিন সমরেশের সাথে আলাপ করার সময় বলেছিল, পরিমলের মুখে শুনেছি, তুমি আমার চেয়ে বছর চারেকের ছোট। নাম ধরে ডাকলে মনে কিছু করবে না তো? সমরেশও অম্লানমুখে বলেছিল, হ্যাঁ, নাম ধরে ডাকলেই ভালো লাগবে। সাথে সাথে বৈশাখী একটু আবদারও করেছিল, সমরেশ, মেয়েকে যা শেখাবে, আমি যদি মাঝে মাঝে তোমার কাছে একটু বুঝে নিই, তোমার কি খারাপ লাগবে? না না, এ তো বেশ ভালো প্রস্তাব, মেয়ের জন্য ভালোই হবে।
সেই থেকে বৈশাখী মেয়ের পাশে বসতে লাগল। দিনে দিনে বলিষ্ঠ, সুঠাম চেহারার সমরেশকে চোখে ধরে গেল। দিন যতই যায়, চোখ যেন আর ফেরাতে পারে না। দু’কাপ চা করে এনে সমরেশকে দেয়, নিজেও খায়। ব্যক্তিগত পরিসরে আলাপ জমে ওঠে। পুরো সময়টাই এখন বৈশাখী থাকে। সমরেশও ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’ বলতে শুরু করেছে। প্রতিদিনই পড়াতে আসে। দামি গাড়ি করে আসে। টিউশন ফী’র চারশো টাকাটা আর নেয় না। বরং আজ শিঙারা, কাল মিষ্টি, পরশু অন্য কিছু নিয়ে আসে। একদিন একটা সুন্দর শাড়িও নিয়ে এলো, সঙ্গে প্রসাধনী সামগ্রী। বৈশাখীও এবার থেকে চা করে সমরেশকে পাশের ঘরে ডাকে। পূর্ণিমাকে কাজ দিয়ে সমরেশ চলে যায়।
সম্পর্কটা আরও নিকট হয়ে গেল। বৈশাখী সমরেশের কাঁধে হাত রেখে কথা বলে। সমরেশও সাহসে ভর করে বৈশাখীর শরীর স্পর্শ করতে লাগলো।
নদী এপাড় ভাঙে, ওপাড় গড়ে। অবশ্য যা অলক্ষ্যে ঘটে, তা কি চিরদিন চাপা থাকে? পরিমলের চোখে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবু লজ্জায় নিজেকে গুটিয়ে রাখে। হৃদয় দিয়ে যাকে ভালোবেসেছে, মুখফুটে তাকে কিছুই বলতে পারে না। সুখের বেশ কয়েকটা বছর এখন ক’টা দিন বলে মনে হয়। ভালোবাসার পাপড়িগুলো একে একে খসে পড়তে লাগলো। অতীতের বিষাদের দিনগুলো ফিরে আসে। অক্লান্ত পরিশ্রমে শরীর ভেঙে গেছে। দুঃস্বপ্নে রাত কাটে। একদিন এক দুঃস্বপ্নের কথা বলল বৈশাখীকে, খুব খারাপ একটা স্বপ্ন দেখেছি। শুনেছি, ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয়। কী স্বপ্ন দেখেছো গো? দেখেছি, তুমি নেই, আর আমি থেকেও নেই। আমাদের মেয়ে অনাথ হয়ে গেছে। তুমি আজকাল আমাকে নিয়ে আজেবাজে ভাবছো, আমি বুঝতে পারি। আর সেসবই স্বপ্নে দুঃস্বপ্ন হয়ে তোমার চোখে ভেসে ওঠে। সমরেশকে নিয়ে যা ভাবছো, তা তোমার অবাস্তব কল্পনা, সন্দেহ। ঠিক আছে, এই সন্দেহ থেকে আমি তোমাকে মুক্তি দেবো।
বৈশাখীর কথামতো সমরেশ এ বাড়িতে আর আসে না। পূর্ণিমা ওর বাড়ি গিয়ে পড়ে আসে। একটু শীতল বাতাস এসে যেন পরিমলের দগ্ধ প্রাণটা জুড়িয়ে দিল। এক মন তখন বলে ওঠে, বৈশাখী, তোমার অমর্যাদা হয়ে থাকলে আমাকে ক্ষমা করে দিও। জানি এ আমার ক্ষমাহীন অপরাধ। পরক্ষণেই আরেক মন বলে ওঠে, কিন্তু দু’চোখে যা দেখেছি, তা কী করে অবিশ্বাস করি?
বিশ্বাস-অবিশ্বাসের টানাপোড়েনে সম্পর্কের বাঁধন আলগাই হতে থাকে। এদিকে বৈশাখীর মন আড়ালে-আবডালে থেকে বিনিসুতোর মালা গাঁথে। পরিমলের অবর্তমানে ফোনে মনের কথা বলে। প্রিয়জনের হাসিমুখ দু’চোখ ভরে দেখে।
লুকোচুরির এ খেলা বোঝে পরিমল। ব্যর্থ প্রেমের কবিতা লেখে হৃদয়ের খাতায়।
“ক্ষণিকের অতিথি হয়ে এসেছিলে তুমি। অভাগার জীর্ণ কুটিরে ঐশ্বর্য নেই, জীবন-নদে অনন্ত সুখের কলতান নেই। বড়ই যাতনা সয়েছো। তবুও তো বড় ভালবেসেছো। ছোট্ট ঘরে বসে আমরা সুখ-দুঃখের কত কথা বলেছি, ভুলে যেও।”
পরক্ষণেই অবুঝ মনে জ্বলে ওঠে বহ্নিশিখা। ভালোবাসাকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে।
বিবেক সামনে এসে রুখে দাঁড়ায়। ওরে, যাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছিস, তার সর্বনাশ করবি! কেমন করে সইবি?
পাগল মন অঝোরে কেঁদে ওঠে। নিজের মৃত্যু কামনা করে। বিবেক সান্ত্বনা দেয়, দুঃখের সাগরে জীবন-তরী ভাসিয়ে দে। স্মৃতিটুকু নিয়েই নাহয় বেঁচে থাক্।
এক ভোরে সমরেশের হাত ধরে বৈশাখী চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে পূর্ণিমা ঘুম থেকে উঠে ‘মা’, ‘মা’ বলে ডাকতে লাগলো। পরিমল দু’হাত বাড়িয়ে ভালোবাসার উপহার আঁকড়ে ধরে বুকে।
…………………………………………………