| উপন্যাস | পর্বঃ দুই |
| পরিযায়ীর সংসার | – হরবিলাস সরকার |
আজিমগঞ্জ জংশন থেকে ট্রেন ছাড়ল। ফারহান জানালা দিয়ে তার গ্রামখানাকে দু’চোখ ভরে দেখতে থাকে। ক্ষণিক পরেই গ্রামের সীমানা পেরিয়ে গেল। সঙ্গী-সাথীরা পাশে থাকলেও এবার নিজেকে বড় একাকী মনে করতে লাগল ফারহান। চোখের সামনে ভেসে ওঠে সুখ-দুঃখের নানা স্মৃতির পাতাগুলো। সেসব সে একে একে উল্টে উল্টে দেখতে থাকে।
ওদিকে বাড়িতে আনোয়ারা মোবাইল ফোনটাকে সঙ্গী করে বসে আছে। বারেবারে খবর নেয়, ওগো, কতদূর পৌঁছালে? খেয়েছো কিছু? প্রিয় বিবিজানের উদ্বেগ দূর করতে বারেবারে উত্তর দেয় ফারহানও। স্বস্তি বোধ করে আনোয়ারা।
বেলা প্রায় বারোটা, ফারহান ফোন করে জানালো, মুম্বাই এক্সপ্রেসে চেপেছি। টেরেন খুব জোরে ছুটছে গো। তোমরা খেয়েছো? হ্যাঁ, খেয়েছি। ……….।
এক দিন, এক রাত এভাবেই কেটে গেল। মুম্বাই পৌঁছে ফারহান ফোন করল যখন, আনোয়ারার দুর্ভাবনা দূর হয় মন থেকে। সে আল্লাকে স্মরণ করে দু’হাতের পাতা জোড়া করে সামনে উঁচু করে ধরে। ঊর্ধ্বপানে তাকিয়ে নিষ্ঠাভরে দোয়া মাগে, হে রসুল, ওকে ভালো রেখো।………..।
দিন কাটতে থাকে। ফারহান মুম্বাইয়ের বহুতলে কাজ করে। কঠোর পরিশ্রম হলেও মনে তার অফুরন্ত আনন্দ। বাড়িতে আনোয়ারাও বসে নেই। সে বিড়ি বাঁধা শিখে কাজ শুরু করে দিয়েছে। হাজি মোড়ল ওরফে আব্দুল কাদের পঞ্চায়েত প্রধান, আবার বিড়ির কারখানার মালিকও। কারখানা দেখাশুনা করে তাঁর ছোট ভাই জাবির আলি। সপ্তাহ শেষে আনোয়ারা বিড়ি দিয়ে আসে জাবির আলির কাছে।
অনেক রাত অবধি বিড়ি বাঁধে আনোয়ারা। বিড়ি বাঁধতে বাঁধতে ভিডিও কল করে ফারহানকে। কত কথা হয় দু’জনের মধ্যে। তারপর ঘুমিয়ে পড়ে। সুখ-স্বপ্নে বিভোর হয় আনোয়ারা, ওদিকে ফারহানও।
এক মাস পর প্রথম টাকা পাঠিয়েছে ফারহান ব্যাংক একাউন্টে। মেসেজ ঢুকেছে আনোয়ারার ফোনে। উল্লসিত মন স্বপ্ন দেখতে লাগল জীবনকে নতুন করে সাজিয়ে নেবার। ফারহানকে বলল, আরশাদের বাপজানগো, ইদের সময় বাড়ি ফিরবা যখন, ভালো একখান শাড়ি নিয়া আসবা কিন্তু। ছেলেমেয়েদের জন্যও কিছু নিয়া আসবা। তোমার মজুরি কি একটু বাড়িছে? আগে তো বারোশো পেতে, এখন কত পাও? ও আমার রূপসী বিবিজান, শুনে নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে, সাড়ে বারোশো করে পাচ্ছি। প্রতিদিন সাড়ে বারোশো! শুনে তো আমার খুব আনন্দ হচ্ছে। শোন, আমি কিন্তু বেটাদের জন্য ভালো ভালো খেলনা, মেয়েদের জন্য দামি পুতুল কিনব, বুলে রাখছি। সব হবে গো, সব হবে। তোমার ইচ্ছা আমি অপূর্ণ রাখবনা। সে আমি জানি। তোমার শরীর, মন ভালো থাকলে অনেক কিছুই হবে। সরকার আমাদের পাকা ঘর দিলনা। পাকা ঘর আমরা নিজেরাই করব, মনের মতো করে সাজাবো। ঠিক আছে, রাখো এখন। কীগো, এখনই রাখতে বুলছো? কেটোনা ফোনটা। ……..।
আনোয়ারার কাছে প্রতিটি দিনই এখন কতনা সুখময়! পরপর তিন মাসে ধার-দেনা শোধ করে, সংসারের খরচ চালিয়ে সে বেশ কিছু টাকা জমিয়েও ফেলেছে। কিন্তু এত সুখের মাঝেই হঠাৎ জীবন-নদীর স্রোত অন্যদিকে বইতে লাগল। সপ্তাহ শেষে তাকে আর বিড়ি দিয়ে আসতে হয় না কারখানায়। বরং ফোন করে জাবিরই আসে বিড়ি নিতে। কখনও প্রয়োজন ছাড়াও আসে। এসে নানা গল্প জুড়ে বসে। গল্প শোনার আগ্রহ প্রকাশ করে আনোয়ারাও। গরম চায়ের কাপ হাতে তুলে দিয়ে বলে, খেয়ে বুলবেন, কেমন হয়েছে। জাবির হেসে উত্তর দেয়, না খেয়েও বুলতে পারি, চমৎকার হয়েছে। সে কী! রসিকতা করছেন? রসিকতা নয় গো, চাঁদবদনী আনোয়ারার চা চমৎকার না হয়ে পারে কি? ছি ছি! কীসব আজেবাজে বুলছেন। আজেবাজে নয় গো, যার হাতের বিড়ি এত ভালো, তার হাতের চা না জানি আরও কত ভালো! তাই? তবে দামটাও যে বেশি লাগবে। দেবো তো……….।
সত্যিকরেই বিড়ির দাম আনোয়ারা অনেক বেশি পেতে লাগল। তার উপর জাবির এখন যখনই আসে, হাতে করে কিছু না কিছু ফল, কখনওবা মুখরোচক খাবার নিয়ে আসে। ঘনিষ্ঠতা এতই বাড়তে লাগল যে, আনোয়ারাও এখন সময়ে-অসময়ে জাবিরকে ফোন করে। আসার জন্য নেমন্তন্য করে। কাজ ফেলে জাবিরও চলে আসে। এখন বারান্দায় আর বসে না। প্রতিবেশীরা উঁকিঝুঁকি মারে। তাই সোজা ভেতরে গিয়ে বসে।
একদিন জাবির চুপিচুপি এক প্রহর রাতে ইদের আগাম উপহার হিসেবে দামি একখানা শাড়ি নিয়ে এল আনোয়ারার জন্য। আজকের পর থেকে আনোয়ারা ফারহানকে আর ফোন করে না। ফারহানের ফোনও ধরতে চায় না। অনিচ্ছায় ফোন ধরলেও বেশিক্ষণ কথা বলে না। নানা অজুহাত তুলে বলে, বেশি করে বিড়ি বাঁধছি গো। ছেলেমেয়েদেরকে সময় দিতে হচ্ছে। ওদেরকে লেখাপড়া শেখাচ্ছি। ঘনঘন ফোন করো না। তুমি তো ইদে আসছোই। তখন বেশি করে গল্প করবো। ছেলেমেয়েদের আর সংসারের প্রতি আনোয়ারার এমন সুমতি দেখে ফারহান খুশি হয় বটে কিন্তু মনের গভীরে যেন এক বিষাক্ত তীক্ষ্ণ তীর এসে বেঁধে।
ইতিমধ্যে জাবিরের বাড়িতেও অশান্তির এক কালো ছায়া পড়েছে। জাবির তার প্রথম বিবি রূপসানাকে খোরপোষ সহ তালাক দিয়ে শাদি করেছিল ফিরোজাকে। সেই দ্বিতীয় বিবিও এখন চোখের শূল। ফিরোজা প্রশ্ন করে জাবিরকে, যা শুনছি, তা কি ঠিক? একটা সামান্য বিড়ি বাঁধা মেয়ে, যে কিনা আবার অন্যের বিবি, তার রূপে তুমি পাগল হয়ে গেলে? আনোয়ারার কথা বুলছ? ছি! লজ্জা করল না ওই নামটা তোমার মুখে তুলতে? ও খুব সুন্দরী। না, তুমিও সুন্দরী। তোমার আর ক’জন সুন্দরী মেয়ে চাই? আমি ধনশালী, সুপুরুষও বটে। তাছাড়া আমাদের ধর্মে বহুশাদির অনুমোদন আছে। নিশ্চয়ই তোমার উত্তর তুমি পেয়ে গেছো। ফিরোজার চোখের জল দু’গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে। হে আল্লা, তবে কি রূপসানার মতো আমারও পরিণতি হবে? জাবির চোখের জল মোছাতে এগিয়ে আসে কাছে। কেন মিছামিছি আজেবাজে ভেবে নিজেকে দুর্বল করছো ফিরোজা? তুমি এ বাড়িতেই থাকবে। জাবির, তুমি যে আমাকে কথা দিয়েছিলে, তুমি শুধু আমাকে নিয়েই থাকবে। …….।
এক দুপুরে জাবির, ফিরোজার তর্ক-বিতর্ক চরমে উঠল। তাতে আনোয়ারার সাথে জাবিরের সম্পর্কের কথাটা এতদিন মানুষের মনে চুপিসারে আনাগোনা করলেও আজ তপ্ত বারুদের মতো এক পলকে বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের লক্ষ ফুলকি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। বড় ভাই হাজি মোড়ল আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে থাকে।
বড় ভাইয়ের পরামর্শে জাবির আনোয়ারার বাড়িতে যাওয়া বন্ধ করল। কিন্তু মনের দুয়ার বন্ধ রাখবে কী করে? ক’দিন পর এক রাতে জাবিরদের পাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বিচিত্রানুষ্ঠানের আসর বসল। আলোর রোশনাইয়ে ভরা মঞ্চে রসময় সংগীত আর ডিজে নামক শব্দ-দানবের ঔদ্ধত্যের তালে তালে উদ্দাম নৃত্য চলছে। সামনে ভিড় জমানো হাজার হাজার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার উল্লাস, কোলাহলে মুখরিত চারপাশের আকাশ-বাতাস। কৃষ্ণপক্ষে বাঁশবাগানের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তাটাও অন্ধকারাচ্ছন্ন। এই সুযোগে জাবির সাবধানে পা টিপে টিপে এসে ঢুকল আনোয়ারার ঘরে। বিরহের অশ্রু নিঃশব্দে ঝরে পড়তে লাগল আনোয়ারার দু’চোখ হতে। সেই অশ্রু মুছে, সোহাগে-আদরে ভরিয়ে দিতে লাগল জাবির। তারপর শাদির প্রতিজ্ঞা করে ফিরে যাচ্ছিল সে। কিন্তু পাড়ার বয়ষ্কা ভানুবিবির চোখ এড়াতে পারলনা। বড় নাতনির হাত ধরে বিচিত্রানুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিল। মাঝরাতের পর বাড়ি ফেরার সময় দেখল, কে একজন ফারহানের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। ভানুবিবি থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। অন্ধকারে মুখ ঢাকা থাকলেও, ওটা যে জাবির, তার চিনতে ভুল হয়নি।
আনোয়ারা ঘরের ভেতরে বসে মঞ্চ থেকে ভেসে আসা ডিজে-গানের সুরে সুর মেলাচ্ছিল। ভানুবিবি শুনেও না শোনার ভান করে নাতনিকে কিছুই বুঝতে না দিয়ে হাঁটা ধরল। এমনসময় আনোয়ারার মোবাইলটা বেজে উঠল। অচেনা নাম্বার, তবু ফোনটা ধরল আনোয়ারা। হ্যালো, কে? আনোয়ারা, আমি ফারহান। অনেক ক’দিন পর ফোন করলাম। রাত এখন প্রায় দু’টা। ছেলেমেয়েরা নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে গেছে। আর তুমি বিড়ি বান্ধ্ছো। শরীরকে কষ্ট দিওনা। ঘুমিয়ে পড়। আনোয়ারা ভীষণ অস্বস্তি বোধ করছিল। ফারহানকে থামিয়ে ধমক দিয়ে বলল, এত রাতে ফোন করছো কেন? রাত জেগে বসে আছো ফোন করবার জন্য?শরীর খারাপ হলে কাজ কামাই হবে না? মালিক কি তোমার মুখ দেখে টাকা দিবে? এবার শুনে নাও সোজা-সাপটা কথা, কাজ কামাই করে ইদে তোমার বাড়ি ফেরার দরকার নাই। সংসারে আমার টাকাপয়সার দরকার আছে। ফারহান কেঁদে ফেলে। আনোয়ারা ফোন কেটে দেয়।
শেষরাতে আনোয়ারার অন্তর্যামী সামনে এসে দাঁড়ায়। ঘুম ভাঙায়। বলে, কীরে আনোয়ারা, যে এত ভালবেসে তোকে জীবনসঙ্গী করেছিল, তাকে তুই কান্দালি? দূরে ঠেলে দিলি? বেশ করেছি। অমন ভালোবাসার দাম কী আছে? সে আমার কাছে থাকে? একথা তুই বুলতে পারলি? যে ফারহান তোর আর ছেলেমেয়েদের সুখের কথা ভেবে, নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে অনেক দূরে ভিন রাজ্যে গেছে পেটের দুমুঠো আহার জোগাতে। সেখানে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে খাটতে নিজেকে তিল তিল করে শেষ করে দিচ্ছে, তার প্রতি এই তোর প্রতিদান, ভালোবাসা? স্বামী-সোহাগ না পেলে কী করবো, বুলো? সে আমার পেটের খিদে মেটায় বটে, মনের খিদে মেটাবে কে? তাই বলে অন্য পুরুষ? মনের এত খিদে ভালো নয়। এ তোর ব্যাধি, ব্যভিচার। ব্যভিচার! কী যে বুলো! ভোগ-বিলাসের জগতে ব্যভিচার বলে কিছু হয়না। দেখছো না, সবাই ঐ দিকেই ছুটছে। শুধু আমি ছুটলেই দোষ? ভুল আনোয়ারা। ফারহানকে দেখছিস না? সে তো নিজের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে। দুঃখের মধ্যেই আছে প্রকৃত সুখ, আনন্দ। সে সুখ, সে আনন্দ আমি চাই না। বৈভব, জৌলুসভরা প্রাসাদের সুখ আমাকে দু’হাত বাড়িয়ে ডাকছে। আমি বড়লোকের বিবি হব। পেয়ে ধন কেন হারাবো? পতন হবে রে, পতন। সব ধ্বংস হয়ে যাবে। তোর অলীক স্বপ্ন সফল হবে না। তুই জাহান্নামে যাবি। ……।
অন্তর্যামী বিদায় নেয়। আনোয়ারা ঘুমিয়ে পড়ে। ওদিকে সুদূরে ফারহানের বিনিদ্র রাত কাটছে। শত দুর্ভাবনা মনের মধ্যে এসে দানা বাঁধছে। ওপরওয়ালাকে স্মরণ করে। খোদা, আনোয়ারাকে তুমি আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিওনা। ওকে ভালো রাখিও। আমার মেয়েরা কেমন আছে! আরশাদ, সামাদ বেটা কেমন আছে! কতদিন ওদের দেখিনা! ……… !
এমনিকরে দুঃখের সাগর পাড়ে ফারহানের দিন কাটতে থাকে। ইদে বাড়ি ফেরার কথা আর মনে করে না। তবু ছেলেমেয়েদের নতুন পোশাক, আনোয়ারার শাড়ি কেনার জন্য টাকাপয়সা পাঠিয়ে দিয়েছে।
তারপর এল সেই বহু আকাঙ্ক্ষিত ইদ। বাংলায় ইদ-উৎসব পালিত হল মহাসমারোহে।
ফারহানের সঙ্গী-সাথীরা, যারা বাড়ি এসেছিল, তারা আবার ফিরে গেছে। তাদের সাথে নতুন অনেকেও গেছে। কেউ গেছে গোটা সংসার নিয়ে। ক’জন স্বামী পরিত্যক্তা, তালাকপ্রাপ্তা মহিলা, দু’জন বেওয়াও গেছে। এদের মুখে ফারহান জানতে পারল দুঃসহ বেদনার কথা।
জীবনকে নিঃশেষ করে দিতে চাইল ফারহান। পারলনা। জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে মৃত্যু শেষ পর্যন্ত হার মানল। ছেলেমেয়েদের কথা ভেবে বাঁচবার অদম্য আকাঙ্ক্ষা জাগরিত হল। যদিও কাজে মন বসাতে পারলনা। উন্মত্ত অবস্থায় দিন ফুরাতে লাগল। মাথায় ইট বইতে বইতে একদিন পড়ে গিয়ে রক্তপাত ঘটল। কাজটাও চলে গেল। সঙ্গী-সাথীরাই এখন বিপদের বন্ধু। ওদের সেবা-শুশ্রূষায় অবস্থার কিছুটা উন্নতি হল ফারহানের। নিদারুণ দুঃখ এখন চিরতরে ভুলে যেতে চায় সে, তবু হারানো অতীত এসে ডাকে বারেবারে। তারই মাঝে আরশাদের কান্না শুনতে পায়। শুনতে পায়, আফসানা, রেহেনা, সামাদ তাকে কাতর হয়ে ডাকছে, আর বুলছে, আব্বু, তুমি চলে আসো, আমরা ভালো নেই।
একদিন অস্তবেলায় ট্রেন ধরল ফারহান। ট্রেন ছুটল বাংলার উদ্দেশ্যে। এক রাত, এক দিন পেরিয়ে আবারও রাত নামল পৃথিবীর উপর। ফারহান তখন কেবলই পা রেখেছে আজিমগঞ্জ জংশন রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। কাশেমপুর পৌঁছাতে আর মাত্র মিনিট পাঁচেকের পায়ে হাঁটা পথ।
বাড়ি পৌঁছালো যখন, ততক্ষণে রাত এক প্রহর পেরিয়ে গেছে। ছেলেমেয়েরা ঘুমিয়ে পড়েছে। আনোয়ারাকে বড়ই অপরিচিতা মনে হল। তাকে আর বিরক্ত করল না ফারহান। ক্লান্ত, খিদের শরীরে ঘুমিয়ে পড়ল ছেলেমেয়েদের পাশে। পরদিন ঘুম ভাঙল দেরিতে। দেখল, মেয়েরা তাকে ধরে অনাথের মতো ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। খুদে আরশাদ খিদেয় কাঁদতে শুরু করেছে। সামাদ আম্মা আম্মা বলে ডাকছে। রেহেনা দিদির মুখপানে তাকায়। আফসানা জলভরা চোখে আরশাদকে কোলে তুলে নিয়ে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে সান্ত্বনা দেয়, কাঁদিস না ভাই, আমাদের আম্মা বাড়িতে নাই।
(ক্রমশঃ)
………………………………………………….