রত্নাকর থেকে বাল্মিকী

অণুগল্প (কল্পনাপ্রসূত)  
রত্নাকর থেকে বাল্মিকী  – হরবিলাস সরকার

               
আজ থেকে আনুমানিক ছ’হাজার বছর আগে, সেই যুগেও আজকের মতোই একদিকে বৈভবের জৌলুস আরেকদিকে নির্মম দারিদ্র্য ছিল। সমাজ প্রভুদের শোষণ-জাঁতাকলে পিষ্ট দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের হাহাকার ছিল। রত্নাকরের দস্যু হয়ে ওঠার পেছনে দারিদ্র্যই ছিল সবচেয়ে বড় প্রমাণ, নয় কি? সেদিনের বৈষম্যভরা সমাজের তৈরি নিয়ম-নীতিই দারিদ্র্যের কারণ ছিল, নয় কি?

সত্যদ্রষ্টা ইতিহাস তাঁর চোখে দেখা সেদিনের সেই কত কথা আজও কানে কানে বলে —

চুরি, ডাকাতি, লুণ্ঠনে লিপ্ত হৃদয়হীন রত্নাকর একদিন গভীর অরণ্যবেষ্টিত নির্জন পথে সমাজের দুই মনীষী ব্রহ্মদেব এবং নারদকে সামনে পেয়ে তাঁদের অর্থ-কড়ি কেড়ে নিতে উদ্যত হল।  ঋষি নারদ তখন রত্নাকরকে প্রশ্ন করলেন, রত্নাকর, এই যে তুমি সংসারে যাদের জন্য এমন পাপের বোঝা বহন করে চলেছো, তারা কি এর ভাগীদার হবে?

রত্নাকরের চৈতন্য জেগে উঠল। দেবর্ষি নারদ এবং ব্রহ্মদেবকে কিছুকাল অপেক্ষা করতে বলে সে বাড়ি ফিরে গেল। সেখানে স্ত্রী, পিতা-মাতাকে জিজ্ঞেস করল, তোমাদের ক্ষুধার্ত মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে আমি না জানি কত পাপ করে চলেছি! তোমরা কি এই পাপের ভাগীদার হবে? সকলেই বলল, না না না, পাপের ভাগীদার আমরা হব কেন? ‘সংসারের দায়িত্ব বহন করা’ তোমার যে পবিত্র কর্তব্য। পুণ্যের ফল গ্রহণ করা যায়, কিন্তু পাপের ফল মোটেই নয়।

রত্নাকরের মন বিষন্নতায় ভরে উঠল। তার অন্তর্যামী সামনে এসে দাঁড়াল, সে-ও ধিক্কার  জানিয়ে বলল, ওরে নিকৃষ্ট, তোর নরকেও ঠাঁই হবে না। তোর একান্ত আপনজনরাও তোকে ঘৃণা করে। ব্যথায় কাতর মানুষটা  তখন দিশেহারা। অমানুষিক যন্ত্রণায় তার ভেতরটা ক্ষতবিক্ষত হতে লাগল।

সেই ক্ষত নিয়ে রত্নাকর বনের মধ্যে ফিরে এল। ব্রহ্মদেব এবং নারদকে কাকুতি-মিনতি করে বলল, হে ঋষিগণ, এই নরাধমের পাপ মোচনের কোনো উপায় আছে কি? নারদ বললেন, পাপ মোচনের উপায় আছে, বৎস। কী উপায়, বলুন দেবর্ষি। সে এক অত্যন্ত কঠিন এবং দীর্ঘ সংগ্রাম। সেই সংগ্রামে জয়ী হতে পারলে তোমার পাশবিক হৃদয়ের বিনাশ ঘটবে। তুমি হয়ে উঠবে মনুষ্যত্বের অধিকারী এক যথার্থ মানুষ। দেবর্ষি, কী সেই সংগ্রাম? এই সরযুর তীরে  নির্জনে তোমাকে জ্ঞান সাধনা করতে হবে। জ্ঞানের আলোয় তোমার ভেতরের সমস্ত অন্ধকার দূর হয়ে যাবে। কিন্তু আমার মন এখন অশান্ত। এই অশান্ত মনে জ্ঞান সাধনা কীভাবে সম্ভব?

নারদ এরপর উৎসাহ জুগিয়ে বললেন, বৎস, অযোধ্যার রাজার ঘরে ভগবান আবির্ভূত হয়েছেন, মনুষ্যরূপে। তিনি এখন কৈশোর উত্তীর্ণ করে যৌবনে পদার্পণ করতে চলেছেন। তাঁর নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তুমি এখন যৌবনের মধ্য গগনে অবস্থান করলেও দুজনেই তো সমসাময়িক কালের মানুষ। তাঁকে স্মরণ করলে তোমার মনে বইবে আনন্দের ফল্গুধারা। কী নাম রাজা আর রাজপুত্রের? সেকি, রাজ্যে বাস করেও তাঁদের নাম জানো না? ঠিক আছে, বলছি। দশ দিকে রাজার রথ সমান গতিতে ছুটতে পারে। দশ মহাবীরের শক্তি তাঁর একার মধ্যেই বিরাজমান। সেকারণেই রাজার নাম ‘দশরথ’। আর রাজপুত্র সদা আনন্দময়, তাই তাঁর নাম ‘রাম’ অর্থাৎ ‘শ্রীরামচন্দ্র’। ‘রাম নামে’ তোমার অশান্ত মন শান্ত হয়ে যাবে। নারদের মতো জ্ঞানী-গুণী মানুষের কথায় রত্নাকর স্বস্তি পেল। কিন্তু কিছুতেই সে ‘রাম’ নামটা মুখে আনতে পারছিল না। বারবারই ‘আম’ বলে ফেলছিল। নারদ উপলব্ধি করলেন যে, পাপীর মুখে জড়তা দেখা দিয়েছে। ওর মুখে এখন পবিত্র ‘রাম নাম’ কিছুতেই আসবেনা।


রত্নাকর হাল ছেড়ে দিল। কিন্তু নারদ একটা উপায় খুঁজে বের করলেন। তিনি রত্নাকরকে ‘রাম’ নামটির অক্ষর দুটোর অবস্থান বদল করে ‘মরা’ কথাটি জপ করতে বললেন। রত্নাকর ‘মরা’ শব্দটা বেশ সুন্দর করেই বলতে পারল। নারদ এবার অদূরে এক ছোট্ট জরাজীর্ণ মাটির কুটির দেখিয়ে বললেন, ওটাই তোমার সাধনার উপযুক্ত স্থান। রত্নাকর দৃঢ় সংকল্পে কুটিরের দিকে এগিয়ে চললে নারদও স্থান পরিত্যাগ করলেন। পাপিষ্ঠের মুখে ‘ম…রা’, ‘ম…রা’, ‘ম…রা’, ….. জপিত হতে লাগল।

বহু বছর পর নারদ আবার ওই সরযু-তীরের বনপথ ধরে যাচ্ছিলেন। এক বিশাল উই ঢিবি অর্থাৎ বল্মীক তাঁর চোখে পড়ল। আর তার ভেতর থেকে অবিরত ‘রাম, রাম, রাম’, ….. ধ্বনি কানে ভেসে আসতে লাগল। কৌতূহলে কাছে এগিয়ে যেতেই বুঝলেন, এ তো সেই জীর্ণ কুটির। এটাকে উইয়ের দলেরা কী চমৎকারভাবে তাদের গৃহে পরিণত করেছে! আর এ তো সেই রত্নাকরের কণ্ঠস্বর। আঃ কী সুমধুর!

নারদ উল্লসিত কন্ঠে ভক্তকে ডাকলেন। উদাত্ত আহ্বান শুনে বল্মীকের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল রত্নাকর। কী অদ্ভুত তাঁর রূপ! চুলে জটা, লম্বা দাড়ি, কপালে অগাধ পাণ্ডিত্যের ছাপ, জ্যোতির্ময় মুখমণ্ডল। তাঁর গলায় নারদ পরিয়ে দিলেন নিজের গলার উত্তরীয়। আর বললেন, আজ থেকে তুমি আর দস্যু রত্নাকর নও, তুমি মহর্ষি বাল্মীকি।

ইতিমধ্যে রাজপরিবারে কতকিছু ঘটে গেছে! মিথিলার রাজকন্যা ‘সীতা’র সঙ্গে রামের বিবাহ, তারপর তাঁর বনবাস যাত্রা, এসবের কিছুই জানেনা রত্নাকর। সেই ‘রাম’ চোদ্দ বছর বনবাসে কাটিয়ে, পরাক্রমশালী রাবণকে নিধন করে সীতাকে নিয়ে অযোধ্যায় ফিরে এসেছেন। দুর্ভাগ্য! পিতা দশরথ এতদিনে আর বেছে নেই। অযোধ্যার প্রাণপুরুষ এখন রামচন্দ্র। সকলেই তাঁর পূজার্চনা করছে। তাঁর রাজত্বে সুশাসনের ঢাক-ঢোল বাজছে। এসবের প্রত্যক্ষদর্শী এখন বাল্মীকি নিজেও। রামের প্রতি মন তাঁর  শ্রদ্ধা ভক্তিতে ভরে উঠেছে। অন্তরের  টান অনুভব করছেন প্রতিনিয়ত। সেই টান উপেক্ষার নয়। একদিন সত্যিই তিনি প্রজাবৎসল রামচন্দ্রের দর্শনে এলেন। অযোধ্যার রাজ পরিবারের সাথে শুরু হয় তাঁর ঘনিষ্ঠতা।

কিন্তু ভাগ্যের কোন্ খেলায় রাজ পরিবারে হঠাৎ যেন নেমে এল এক অশান্তির কালো ছায়া। ‘সীতার গর্ভে রামচন্দ্রের বংশধর ভূমিষ্ঠ হবার অপেক্ষায়’ — একথা শোনামাত্রই প্রজাদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনাচার কেউ মানবেনা। ক্রমে অসন্তোষের আগুন জ্বলে উঠল। তারা বলতে লাগল, সীতা এতদিন রাবণের অশোক কাননে বন্দী ছিল। তাহলে এমন ঘটনা কী করে ঘটতে পারে?

রামচন্দ্র প্রজাদের কথার মান্যতা দিলেন। স্বয়ং রামচন্দ্রের বুকেও সন্দেহের তীক্ষ্ণ তীর এসে বিঁধল। অসহায় সীতার আশ্রয় হল পরমপূজ্য মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রমে। দুঃখিনীর চোখের জলের মূল্য দিল না কেউ। শুধু বাল্মীকির অন্তর্যামী ব্যথায় কাতর হয়ে উঠল। প্রশ্ন করল, কী দেখছ, কী শুনছ বাল্মিকী? যা কিছু শুনছি, দেখছি, তা অতীব দুঃখময়, যন্ত্রণাময়। প্রজাদরদি রাম প্রাণের চেয়েও প্রিয় সীতাকে দূরে ঠেলে দিল।  এটাকে তুমি কী চোখে দেখবে? গভীর ভালবাসাও কখনও বিচ্ছেদে পরিনত হয়। তুমি ঠিক বলেছ। মনে রেখো বাল্মীকি, এই বেদনার কথা সত্যদ্রষ্টা ইতিহাস কোনদিন ভুলবেনা। তোমার অন্তর্যামীও ভুলবেনা। অন্তর্যামী, আমিও ভুলতে পারবনা। স্মৃতির মণিকোঠায় সযত্নে লিখে রাখব এ কাহিনী। তবু আমি আজ একটি বড় প্রশ্নের উত্তর নিরন্তর খুঁজে বেড়াই — অসহায় সীতার এমন পরিণতির জন্য কে বা কারা দায়ী?

  অন্তর্যামী সত্যদ্রষ্টা ইতিহাসকে আহ্বান জানাল। ইতিহাস এসে বাল্মীকির সামনে দাঁড়িয়ে বলতে লাগল, শোন তবে বৎস, তোমার আশ্রমে জন্ম নিল লব। এরপর পৃথিবীতে এল কুশ। সে-ও তো পুরুষের লালসারই ফল। সবুজ অরণ্যে দু’টি সন্তান বড় হতে লাগল তোমারই স্নেহ-মমতায়। কিন্তু শৌর্য-বীর্যের অধিকারী যে পুরুষ প্রধান সমাজ নিষ্পাপ অসহায় সীতার শরীরে কলঙ্ক লেপে দিল, তাঁরাই বিধান দিলেন যে, সীতা’র সতীত্ব প্রমাণে তাঁকে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে। প্রজাবৎসল রামচন্দ্র নিজেই অগ্নিযজ্ঞের আয়োজন করলেন। অগ্নিযজ্ঞে নিজেকে আহুতি দিলেন সীতা। সব কলঙ্ক পুড়ে ছাই হয়ে গেল। চির মুক্তি পেল সীতা। তোমার উত্তর তুমি খুঁজে পেলে বাল্মীকি? সত্যদ্রষ্টা ইতিহাস, পেয়েছি। রাম তাঁর রাজধর্ম পালনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে দুঃখিনী সীতা’র জীবনে যে নির্মম পরিণতি ঘনিয়ে আনতে বাধ্য করল, সেই কাহিনী আমি আমার স্মৃতির পাতায় লিখে রেখে যাবো সিন্ধুপারে আগামী দিনের মানুষের জন্য। বাল্মীকি, তুমি মহাজ্ঞানী মহাপুরুষ, ইতিহাস লেখা তোমার কাজ নয়, সে কাজ আমার। তুমি এমন কাহিনী লেখ, যা মানুষকে শিক্ষা দেবে। অমানুষ থেকে মানুষ হবার প্রেরণা যোগাবে। পুরুষ তার অহমিকা ভুলে যাবে। নারী পাবে যোগ্য মর্যাদা। অর্ধেক আকাশ যে তাঁরও। সবচেয়ে বড় কথা হল — রুঢ় বাস্তব কখনও হৃদয়কে বিকশিত করতে পারে না। জীবনকে সঞ্জীবন করে তুলতে পারে না। এমনকিছু সৃষ্টি কর, যার মধ্যে মানুষ পাবে অমৃত সুধারস। সেই সুধারস পানে জীবন বেঁচে থাকবে নতুন জীবনের আশা-আকাঙ্ক্ষায়।  তা নাহলে এই পাকে নিমজ্জিত সমাজ জাগবে কী করে? অন্তর্যামী সামনে এসে বলল, বাল্মীকি, সত্যদ্রষ্টা ইতিহাসের মর্মবাণী বুঝতে পেরেছ? রাম-সীতার করুন বিচ্ছেদের কাহিনী হয়ে উঠুক প্রেমময়। হিংসা, লোভ, হীন স্বার্থময় সংসারে জাগাও ভ্রাতৃত্বের মধুর সম্পর্ক। তবেই তোমার সৃষ্টি সার্থক হয়ে উঠবে। ব্যথা হৃদয়কে ব্যথিত করুক, কিন্তু হৃদয় যেন ধ্বংসলীলায় মত্ত না হয়। হৃদয় অঙ্গীকারবদ্ধ হোক নব সৃষ্টির আনন্দে। এরপর সত্যদ্রষ্টা ইতিহাস বলল, বাল্মীকি, অযোধ্যার নীলাকাশতলে আরও এক কাহিনী আছে, যা আরও করুন, হৃদয়বিদারক। শুনতে চাও? বলছি, শোন তাহলে —

তরুণ বয়সে রাজা দশরথ এক দুপুরে শিকারে বেরিয়েছিলেন। ‘সিন্ধু’ নামে এক যুবক তার অক্ষম পিতা অন্ধমণি ও অসুস্থ মাতাকে বাহকের দু’দিকে ঝুরিতে বসিয়ে সারাদিন কাঁধে বয়ে নিয়ে বেড়াতো। একদিন পথে বাহক নামিয়ে পিতা-মাতার তৃষ্ণার জল আনতে গভীর বনের মধ্যে জলাশয়ের কাছে গিয়েছিল সিন্ধু। কিনারে ঝোপের মধ্যে বসে কলসিতে জল ভরছিল। দূর থেকে দশরথ ‘বন্য হাতি জল খাচ্ছে’ ভেবে শব্দভেদী বাণ নিক্ষেপ করলেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সিন্ধুর। তৃষ্ণার জল পিতা-মাতার মুখে সে আর তুলে দিতে পারলনা। ‘হায় পুত্র! হায় পুত্র!’ বলে মৃত্যু হয় পিতা-মাতারও। বাল্মীকি, তুমি তখনও পৃথিবীতে আসোনি। অশ্রনয়নে বাল্মীকি চিৎকার করে উঠল, ইতিহাস, এ তুমি কী শোনালে আমাকে! রাজার বিলাসিতা, বিনোদন কারও জীবনে এমন নিষ্ঠুর পরিণতি ডেকে আনতে পারে!

অপরাধী তাঁর শাস্তিও পেয়েছেন, বাল্মীকি। যে পুত্রশোকে অন্ধমুনি আর তার স্ত্রীকে প্রাণ খোয়াতে হয়েছিল, কালের গতিপথে একদিন রাজা দশরথও সেই পুত্রশোকে প্রাণত্যাগ করলেন। বাল্মীকি, তুমি যদি আজও হৃদয়হীন রত্নাকর রূপে বিরাজ করতে, জানি, এই নির্মম বেদনা তোমাকে আহত করত না। আজ তুমি মহর্ষি বাল্মীকি। তোমার হৃদয় তাই বুঝি অসহনীয় ব্যথায় কেঁদে উঠেছে।

বাল্মীকি পলকহীন চোখে অন্তরের দৃষ্টি মেলে। তাঁর অন্তর্যামী দু’হাতে বুক চাপড়ে বলে ওঠে, সৎমা কৈকেয়ীর নিজ পুত্রকে রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী করবার  দুর্দমনীয় মনোবাসনার পরিণতি হিসেবে রামের বনবাস, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে প্রভাবশালীদের কুনজরে বিদ্ধ অপরূপা সীতার দুর্ভোগভরা জীবন, তাঁর অগ্নিপরীক্ষা, তারপর চিরবিদায়! এসবের অনেককিছুই  তুমি শুনেছ, অনেককিছুই নিজ চোখে দেখেছো, বাল্মীকি। তবে আজ নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পারছো, রাজপ্রাসাদের ভেতর-বাইরেটা কত কলুষতায় পরিপূর্ণ! কত চোখের জলে সিক্ত অযোধ্যার মাটি! এসব থেকে পরিত্রাণের পথ তোমাকেই দেখাতে হবে। শত অলঙ্কারে ভরিয়ে দাও সেই পথ। তোমার শিল্পী মনের তুলি দিয়ে এমন এক জীবন আঁক, যাঁর জীবন-গাথা চিরকাল শ্রুতি হয়ে রবে মানুষের মুখে মুখে, প্রতিধ্বনিত হবে সিন্ধু-তীরের আকাশে বাতাসে। ……। আরও কত কথা বলে অন্তর্যামী বিদায় নিল।

বাল্মীকি তাঁর অশ্রু দিয়ে স্মৃতির পাতায়  লিখলেন দুঃখেভরা রাম-সীতার কাহিনী ‘রামায়ণ’। সে কাহিনীর নিদারুণ মর্মব্যথা যুগ-যুগান্তরের পথ পেরিয়ে আসমুদ্রহিমাচলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। হৃদয়ে হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে রইলেন স্রষ্টা বাল্মীকিও।
……………………………………………………..

   
   

Leave a Comment